প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মৃত্যুই যদি রিপাবলিকানদের শেষ ইচ্ছে না হয়, তাহলে তাঁরা যেন অবিলম্বে ২০০০ ডলার নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করে। মার্কিন জনগণের জন্য ৬০০ ডলারের নগদ প্রণোদনা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচন কুক্ষিগত করার সুযোগ দেবেন না। তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি কঠিন হওয়ারও আহ্বান জানান।
সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল ২৯ ডিসেম্বর নাগরিক প্রণোদনা বৃদ্ধির আইন প্রস্তাব উত্থাপনে বাধা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বানের সঙ্গে মিল রেখে ডেমোক্রেটিক দল নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ২৮ ডিসেম্বর একটি আলাদা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ প্রস্তাবে নাগরিক প্রণোদনা ৬০০ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ২০০০ ডলার করার কথা রয়েছে। সিনেটে বাধার কারণে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চার্লস শুমার বর্ধিত প্রণোদনার প্রস্তাবটি সিনেটে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেন, তাঁরা সিনেটে আরেকটি বিল নিয়ে আসবেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রযুক্তি কোম্পানিকে দেওয়া স্বাধীনতা খর্ব করতে আগে থেকেই প্রয়াস চালিয়ে আসছেন। ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঠিক আগে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দেওয়া আইনের ২৩০ ধারা তিনি বাতিল করতে আইন প্রণেতাদের চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে সিনেটে পৃথক আইন প্রস্তাব ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পাবে বলে মনে হচ্ছে না।
২৭ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা প্রণোদনা আইনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ নগদ অর্থ প্রণোদনা পেতে শুরু করবেন। নতুন কোনো আইন প্রস্তাব গৃহীত হলেও পাস হওয়া আইনে জনপ্রতি ৬০০ ডলার হিসেবে নাগরিক প্রণোদনা এই সপ্তাহেই পাঠানো শুরু হবে বলে অর্থ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জনগণের কাছে শেষ মুহূর্তে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্য এমন প্রকাশ্য প্রস্তাব করায় রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীলরা বিপাকে পড়েছেন। আসছে দু-এক দিনের মধ্যে এই বর্ধিত নাগরিক প্রণোদনার ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ডেমোক্রেটিক দল ও বর্ধিত নাগরিক প্রণোদনার সমর্থকেরা এই প্রস্তাব পাসের বিষয়ে বেশ আশাবাদী।
জর্জিয়ায় ৩ জানুয়ারি দুই সিনেট আসনের নির্বাচন। এই দুই সিনেট আসনে নির্বাচন করা রিপাবলিকান দলের ডেভিড পেরুড ও কেলি লয়েফলার সংগত কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। বর্ধিত নাগরিক প্রণোদনার বিরোধিতা করলে ৩ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। ডেমোক্রেটিক দল সিনেটের এই দুই আসন দখল করতে পারলে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি হবে। হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আধিপত্য নিয়ে এর মধ্যেই রক্ষণশীলদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানদের নিয়ে তেমন ভাবিত নন। রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের চাপে ফেলে ৬ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার প্রকাশ্য তৎপরতা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রতিদিন টুইট করে বলছেন, আরও বহু সংখ্যক জাল ভোট পাওয়া গেছে। তাঁর এ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ৩ নভেম্বর নির্বাচনের পর ট্রাম্প শিবির অর্ধ শতাধিক মামলা করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন, ৬ জানুয়ারি দেখা হবে। তাঁর সমর্থকেরা আগে থেকেই হোয়াইট হাউসের আশপাশে এ দিনটিতে অবস্থান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। পদাধিকার বলে এ কাজটি তিনি করবেন। ট্রাম্প সমর্থক আইন প্রণেতারা ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে আপত্তি উপস্থাপন করবেন। এ আপত্তি নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স কোনো বৈরী সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিলেই ঝামেলা শুরু হবে।
৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থকেরাও সমবেত হবে। কোনো কোনো মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মতো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও লুটতরাজের মতো ঘটনাও ওই দিন ঘটতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার দাবি থেকে সরে আসছেন না ট্রাম্প। তাঁর এ গোঁয়ার্তুমি রাজনৈতিক মহলে পাত্তা না পেলেও কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বেপরোয়া ট্রাম্পও নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলার। এখনো ট্রাম্পের কিছু সমর্থক মনে করেন, ট্রাম্পই পরের চার বছর ক্ষমতায় থাকছেন। যদিও এমন কোনো সম্ভাবনা আছে বলে কেউ মনে করে না।


0 Comments