Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

রোমাঞ্চের পসরা সাজাল ৫ গোলের ম্যাচ

 


শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ১-০ শেখ জামাল ধানমন্ডি, এরপর ২-০, ২-১, ৩-১ থেকে শেষ পর্যন্ত ৩-২।


একটি ম্যাচে এর চেয়ে বেশি নাটকীয়তা দেখা যায় খুব কম। অন্যভাবে বললে পাল্টাপাল্টি গোলের উপভোগ্য এক ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট কয়েক আগেও ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল শেখ জামাল। 


তবে এক গোল করে হারের ব্যবধান কমাতে পারলেও কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাবে তারা। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন শেখ জামাল অধিনায়ক সোলেমান কিং।


শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারলেও ‘এ’ গ্রুপ থেকে গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে শেখ জামাল। টানা দুই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল শেখ রাসেল। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের বিদায়।


বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫ গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো এক সন্ধ্যা উপহার দিয়েছে দুই দল। শেখ রাসেলের হয়ে একটি করে গোল করেন সিওভুশ আশররভ, উগোচুকু মানেকে ও তকলিস আহমেদ। 


শেখ জামালের দুটি গোলই এসেছে সোলেমানের পা থেকে। দুটি গোলই পেনাল্টি থেকে করেছেন গাম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড।


শেখ জামালের দুর্ভাগ্য, তাদের তিনটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে। সোলেমান, ওমর জোবে ও ভালিজনভ ওতাবেক—সোলেমানেরটি সাইড পোস্টে আর জোবে ও ওতাবেকের শট লেগেছে ক্রসবারে। 


এক ম্যাচে তিন–তিনটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে সাধারণত ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। শেখ জামালকে এই দুর্ভাগ্য মেনে নিতে হয়েছে।


আগের ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবকে ১-০ গোলে হারালেও শেখ রাসেলের খেলা কারও ভালো লাগার কথা নয়। আজ জয়ের সঙ্গে ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছে ২০১২-১৩ মৌসুমে ট্রেবলজয়ীরা। 


আগের ম্যাচের মতো আজও ৪-৩-৩ ফরমেশনে একাদশ সাজিয়েছিলেন সাইফুল বারী। তবে একাদশে পরিবর্তন ছিল দুটি। সেন্টারব্যাকে বাবলুর জায়গায় দিদারুল হক আর তকলিস আহমেদের জায়গায় রুম্মন হোসেন।


ট্যাকটিকস বোর্ডে একজন সৈন্যের পরিবর্তনেই বেড়ে যায় দলের শক্তি। উইং থেকে সরিয়ে নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার উগোচুকু মানেকে তাঁর প্রথাগত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো হয়েছে। 


উগোচুকুর গোলটিই এর উদাহরণ। অবশ্য ৩৯ মিনিটে তাঁর গোলে শেখ জামালের সেন্টারব্যাক রেজাউল করিমের ভুলটাই অনেক বেশি। তবে রেজাউলকে প্রেস করে ভুল করতে বাধ্য করেছেন উগোচুকু। 


লেফটব্যাক মনসুর আমিনকে পাস দিতে গিয়ে রেজাউল বল তুলে দেন উগোচুকুর পায়ে। অ্যাটাকিং থার্ডের শুরুতে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে প্রবেশ করেন। রেজাউল পুনরায় দৌড়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

 কিন্তু ইনসাইড-আউটসাইড ডজে রেজাউলকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়েছেন উগোচুকু। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।


নাইজেরিয়ান এই মিডফিল্ডারের আগে ৬ মিনিটে শেখ রাসেলের গোলের খাতা খুলেছেন তাজিকিস্তানের সেন্টাররব্যাক সিওভুশ আশররভ। 


বখতিয়ার দুশবেকভের কর্নার থেকে হেডে গোলটি করেন তিনি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে সোলেমানের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।


দ্বিতীয়ার্ধে উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার ওতাবেক বদলি হিসেবে নামলে শেখ জামালের খেলায় ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। ওতাবেকের কল্যাণেই পেনাল্টি পায় জামাল। 


উজবেক এই মিডফিল্ডারকে জামাল ডিফেন্ডার দিদারুল হক ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ৪৯ মিনিটে স্পটকিক থেকে ২-১ করেন সোলেমান কিং। 


পরের মিনিটেই সোলেমানের ভলি দারুণ সেভ করেন শেখ রাসেল গোলরক্ষক আশরাফুল।


৫৯ মিনিটে শেখ রাসেলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন বদলি তকলিস। বখতিয়ার দুশবেকভের ফ্রি–কিক থেকে ফ্লিক করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার জিয়ানকার্লো রদ্রিগেজ। 


দূরের পোস্ট থেকে পা ছুঁয়ে গোল করেন তকলিস। দুর্ভাগ্য তাড়া না করলে ৬৭ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফিরতে পারত জামাল। 


৪ মিনিটের ব্যবধানে (৬৩ ও ৬৭ মিনিট) জোবে ও ওতাবেকের বুলেটগতির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বারবার পোস্টে বল লাগা মানেই সাধারণত দুর্ভাগ্য।

মনে হচ্ছিল গতবারের মতো এবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে শেখ জামাল। কিন্তু এক পেনাল্টিতেই ভাগ্য বদলে যায় শেখ জামালের। 


ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের মধ্যে জোবেকে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম ফাউল করলে পেনাল্টি পায় শেখ জামাল। স্পটকিক থেকে ৩-২ করেন সোলেমান কিং।


গ্রুপে শেখ জামাল ও বাংলাদেশ পুলিশের পয়েন্ট সমান ১। তবে গোল বেশি করার সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামাল। দুই ম্যাচে পুলিশ যেখানে ২টি গোল করেছে, শেখ জামালের গোল ৪টি



Post a Comment

0 Comments